Follow by Email

Search This Blog

Loading...

Wednesday, 9 February 2011

আমি সমস্ত খুনি-অপরাধীর বিচার চাই

৭১-এর খুনের অপরাধে কতিপয় অভিযুক্তকে বিক্ষিপ্ত আকারে ধরা হয়েছে। এতে আমার আলাদা কোন উল্লাস নাই। কে ৭১-এ খুন করেছে, কে ৮১-তে, কে ৯১-এ, কে ২০০১ সালে, কে ২০১১ সালে এটা আমার কাছে মুখ্য না। আইন যদি তার নিজস্ব গতিতে চলত তাহলে যথাসময়ে এই সব অন্যায়ের বিচার হত, যুগের পর যুগ ধরে রক্তের দাগ হাতে নিয়ে আমাদেরকে ঘুরে বেড়াতে হত না!
যাই হোক, আমি সমস্ত খুনি-অপরাধীর বিচার চাই। কে কয়টা খুন করেছে সেটা অন্য বিচার্য বিষয়।

৭১-এর খুনি-অপরাধীদের বিষয়টা অনেকখানি ভিন্ন কারণ এরা কেবল অপরাধ করেই ক্ষান্ত থাকেননি যথানিয়মে ক্ষমতায় এসেছেন, আইনকে বুড়ো আঙ্গুল দেখিয়ে আমাদের মাথায় বনবন করে ছড়ি ঘুরিয়েছেন। সেই কারণে আমাদের ঘৃণাটা তীব্র। এই দেশের আইন এখনও এটা প্রমাণ করতে পারেনি, আইন সবার ক্ষেত্রে সমান। এমনটা হলে বিস্তর প্রমাণ থাকার পরও ৭১-এর খুনিরা সদর্পে ঘুরে বেড়াতে পারত না। কিন্তু এমন বুক চিতিয়ে অনেক খুনিই তো বহাল তবিয়তে আছে, ঘুরে বেড়াচ্ছে, আইন তাদের কেশও স্পর্শ করতে পারছে না!

কর্নেল তাহেরকে [১] বিচারের প্রহসনের নামে যেমন করে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে হত্যা করা হয়েছে এটা কি খুন না? এই খুনিরা আইনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে পার পেয়ে গেছেন। এই খুনের বিচার হলো না কেন? একজন অকুতোভয় মুক্তিযোদ্ধা [২], একজন সেক্টর কমান্ডার, একজন শারিরীক সমস্যা আক্রান্ত মানুষকে যেভাবে খুন করা হয়েছে এর নজির বিরল! 
তাঁকে যেভাবে ফাঁসি দেয়া হয় প্রকারন্তরে এ খুনেরই নামান্তর। তাঁর ডেথ ওয়ারেন্ট ইস্যু করার মাত্র ৩ দিনের মাথায় ফাঁসি কার্যকর করা হয়। অথচ জেল কোড অনুযায়ী ডেথ ওয়ারেন্ট ইস্যুর ২১ দিন আগে বা ২৮ দিন পরে মৃত্যুদন্ড কার্যকর করার বিধান নাই। 

শাহআলম সাহেবের সুযোগ্য পুত্র সানবীর কেবল খুনের অভিযোগে অভিযুক্তই না, খুনের মামলায় সানবীরকে ধরতে ইন্টারপোলের সাহায্যও চাওয়া হয়েছিল। ইন্টারপোল এখন ইলেকট্রিক-পোল হয়ে গেছে!
২০০৭ সালের ১১ জানুয়ারির পটপরিবর্তনের পর ৩ ফেব্রুয়ারি থেকে যৌথ বাহিনীর অভিযানের সময় গোটা পরিবার বিদেশে পালিয়ে যায়। তখন ১৪টি মামলা হয়েছিল।
পট-পরিবর্তনের পর শাহআলম সাহেব কেবল ফিরেই আসেননি, সদর্পে ছড়ি ঘোরাচ্ছেন। টাকা থাকলে কী না সম্ভব [৩]? দান-খয়রাতও করা যায়। শাহআলম সাহেবের সুযোগ্য পুত্রধন এটা না বলে বসে আছেন বুঝি? 'সানবীর' কোন এক ককটেল পার্টিতে রসিয়ে রসিয়ে-তারিয়ে তারিয়ে বলবেন, জানিস, বান...কে মেরে যে গন্ডগোলটা হল না। শ্লা, ড্যাডের ২০০ খরচ হল। কাট মাই শিট!
২০০ মানে ২০০ কোটি।

এক এক করে মিডিয়াও কিনে ফেলা যায় [৪]। সেইসব মিডিয়ায় এই দেশের বুদ্ধিজীবী মানুষরা তাদের বুদ্ধি শাহআলম সাহেবের পদতলে রেখে দেন।  
বেশ, কিন্তু কি গতি হয়েছে সাব্বির হত্যা মামলার? 

রাহেলা [৫] খুনের মামলার এখন অবস্থা কি? এই অভাগা মেয়োট কি বিচার পাবে? মানুষ নামের সেই নৃশংস খুনিরা কি শাস্তি পাবে?
"‘আমি মরি নাই, আমারে বাঁচান’! কেমন করে সম্ভব একজন মানুষের পক্ষে এই অল্প কটা শব্দ উচ্চারণ করা? যে মানুষটার শরীরে পচন ধরেছে। স্পাইনাল কর্ড এবং দু-পায়ের রগ কাটা, শুধু কন্ঠনালীর মাধ্যমে শরীরের সঙ্গে মাথা ঝুলে আছে। শরীরের ক্ষতঅংশে অজস্র পিপড়া বাসা বেধেছে এবং কাটা অংশ থেকে রক্ত পড়তে পড়তে পুরো শরীর ফ্যাকাসে হয়ে গেছে। মানুষটাকে এ গ্রহের চরম শারীরীক নির্যাতন করে নর নামের যে নরপশুরা তাকে জঙ্গলাকীর্ণ নির্জন স্থানে এই অবস্থায় ফেলে গিয়েছিল, দু-দিন পর তার আবার ফিরে আসে এবং জীবিত দেখে ক্ষতস্থানে এসিড ঢেলে দিয়েছিল।" 

বর্তমান সংসদ সদস্য এরশাদ সাহেবের আমলে যে ১৪ বছরের বালককে প্রহসনের নামে খুন করা হয়েছিল (দৈনিক আজকের কাগজ, ০৬.০৭.৯১)। ১৪ বছর হলেও আমাদের দেশের প্রচলিত আইন, Sailent features of the children act of 1974, Section 2 (F)-এ বলা হচ্ছে, শিশু কারা? "A child means a person under 16 years of age." ১৬ বছরের নীচে কাউকে ফাঁসি দেয়ার বিষয়ে (Child Rights and Juvenile Justice-এ Section 51), বলা হচ্ছে, "No Child to be sentenced to death." এই শিশু হত্যার কি বিচার হবে না? এই খুনের দায় এরশাদ সাহেব [৬] এড়াতে পারেন কেমন করে? এবং এমন একটা খুন যার কারণে সভ্যতা কেঁপে উঠে!


চলেশ রিছিল নামের মানুষটাকে তৎকালীন এডিএম হৃদরোগে মৃত্যু হয়েছে বলে জানান।কিন্তু আমরা জানি তিনি হৃদরোগে মারা যাননি। তার মৃতদেহে অসংখ্য নির্যাতনের চিহ্ন ছিল, তাঁর চোখের জায়গায় ছিল মার্বেল। ২০০৭ সালের ১৮ মার্চ ময়মনসিংহ থেকে ফেরার পথে চলেশ রিছিল এবং তাঁর আত্মীয় প্রতাপ জাম্বিল, তুহিন হাদিমা, পিরেন সিমসাংকে আটক করা হয়। এই প্রতাপ জাম্বিলই জানিয়েছিলেন, আটকের পর তাঁদেরকে মধুপুরের সেনাক্যাম্পে নেয়া হয়। সেখানেই চলেশ মারা যান। খুন নামের এই মৃত্যুর বিচার হবে না?

কল্পনা চাকমা। সেই ১৯৯৬ সালের ১২ জুন সপ্তম নির্বাচনের পূর্বে প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনায় সেনাসদস্যরা তাঁকে ধরে নিয়ে যায়। আজ পর্যন্ত যখন কল্পনা চাকমার খোঁজ পাওয়া যায়নি তখন এটাকে খুন হিসাবে ধরে নেয়া যেতে পারে। কেবল তাই না, কল্পনা চাকমা অপহরণের প্রতিবাদ করতে গিয়ে রূপন চাকমা নামের একজন ছাত্র নিহত এবং তিনজন ছাত্র নিখোঁজ হন। ওই তিনজন ছাত্রের লাশ আজও পাওয়া যায়নি। এই সব খুনের সঙ্গে যারা জড়িত তাদের বিচার হবে না?

১৯৭৫ সালে জেলখানায় যে ৪জন জাতীয় নেতাকে খুন করা হয়েছিল, এই খুনগুলোর বিচার কবে হবে? কোন একটা দেশের সরকার হচ্ছে সেই দেশের জনগণের পিতা। তাঁর দায়িত্ব তার সন্তানদের রক্ষা করা। জেলখানায়, সরকারের কাস্টডিতে যখন ফট করে গুলি করে কাউকে মেরে ফলা হয় তখন কেবল কয়টা প্রাণ গেল সেটা জরুরি না, এই প্রাণগুলো কার ছিল সেটাও এখানে আলোচ্য বিষয় না। স্রেফ একটা সভ্যতার মৃত্যু হয়। মানুষ হিসাবে বর্বর লেন্দু জাতি এবং আমাদের মধ্যে খুব একটা ফারাক থাকে না! 
এখন এই খুনের বিচার হলেও খুব কি একটা লাভ হবে? মোশতাক সাহেব তো সমস্ত শাস্তির বাইরে। কিসের জাস্টিস, কোথায় জাস্টিস! 

এমন কতশত খুনের বিচার হয়নি। তবুও আমি চাইব বিচারগুলো হোক, রক্তের দাগ মুছে যাক। নইলে রক্তের দাগ থেকেই যায় [৮]। সময়টা ৪০ বছর, না ৪০০ বছর, তাতে কী আসে যায়...।

সহায়ক লিংক: 
১. কর্নেল তাহের: http://www.ali-mahmed.com/2009/01/blog-post_8805.html 
২. মুক্তিযুদ্ধে একজন তাহের: http://www.ali-mahmed.com/2007/06/blog-post_5428.html
৩. টাকাই সব: http://www.ali-mahmed.com/2009/04/blog-post_14.html
৪. কালের কন্ঠ বনাম মুড়ির ঘন্ট: http://www.ali-mahmed.com/2010/01/blog-post_16.html
৫. রাহেলা, একটা চাবুকের নাম: http://www.ali-mahmed.com/2008/02/blog-post_27.html
৬. শিশুর ফাঁসি: http://www.ali-mahmed.com/2010/06/blog-post_16.html 
৭. চার নেতা: http://www.ali-mahmed.com/2009/11/blog-post_03.html 
৮. রক্তের দাগ: http://www.ali-mahmed.com/2010/01/blog-post_18.html     

No comments: