Follow by Email

Search This Blog

Loading...

Tuesday, 27 January 2009

মুক্তিযুদ্ধে: একজন আদিমানুষ-একজন আদিবাসী, প্রিনছা খেঁ

রাখাইন মেয়ে প্রিনছা খেঁ।
...১৯৭১ সালের মাঝামাঝিতে প্রিনছার স্থান হয় শক্র ক্যাম্পে।
শক্র ক্যাম্পে পাক-আর্মির দুই বাবুর্চির সঙ্গে যুক্ত হয়ে প্রিনছা হয়ে গেলেন তৃতীয় বাবুর্চি। ক্যাম্পে কাঠ সংগ্রহকারী বাবুলের সঙ্গে তিনি গোপনে পরিকল্পনা করতে থাকেন।

অক্টোবরে প্রিনছা ক্যাম্প অধিনায়ক সুবেদারকে জানালেন তিনি অসুস্থ, ঝালকাঠি যেতে চান ডাক্তার দেখাতে। এক হাবিলদার, এক সিপাইসহ বাবুল আর প্রিনছা এলেন ঝালকাঠি ডাক্তারের কাছে। ডাক্তার যখন অসুখের জিজ্ঞেস করলেন, তখন প্রিনছা বললেন, তিনি গর্ভবতি গোপনে কথা বলবেন। পেছনের ঘরে গিয়ে তিনি ডাক্তারকে বললেন, আসলে তিনি অন্ত:সত্বা নন, কিন্ত পাকিস্তানি হাবিলদারকে যেন ডাক্তার বলে দেন, তিনি অন্ত:সত্বা, প্রতি চার দিন পরপর তাঁকে ডাক্তারের কাছে পরীক্ষার জন্য আসতে হবে।
পরে ডাক্তারের কাছে গিয়ে প্রিনছা বললেন, তাঁর বিষ চাই। (কেন চান এটাও বুঝিয়ে বললেন) ডাক্তার কিছুদিন সময় নিয়ে ঝালকাঠি থেকে বিষ এনে দিলেন।

সেদিন সন্ধ্যায় খুবই যত্ন করে রান্না করলেন প্রিনছা। তার আগে রান্নাঘরে দুই পাকিস্তানি বাবুর্চিকে খাইয়ে এসেছেন, খাওয়া শেষে সবাই অচেতন। পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী প্রিনছা বাবুলের সঙ্গে পালিয়ে যান নাজিরপুলে।
সেই ক্যাম্পের ৪২ জন শক্রর মধ্যে ১৪ জন অচেতন অবস্থায় মারা যায় আর বাকিদের ঢাকায় পাঠানো হয়েছিল চিকিত্সার জন্য।
*তথ্যসূত্র: জনযুদ্ধের গণযোদ্ধা/ মেজর (অব.) কামরুল হাসান ভূইয়া।

(প্রিনছা খেঁ নামের এই মানুষটাকে ৩৬ বছর পর্যন্ত মুক্তিযোদ্ধার যথাযথ সম্মান দেয়া হয়নি, তেমন কেউ মনে রাখেনি। এর পরে কী হয়েছে এটা জানা নাই। ইতিহাসে এদের নাম আসে না কারণ এরা দলবাজ না। ঘুরেফিরে আসবে অল্প কিছু বিখ্যাত মানুষদের নাম। বছরের পর বছর ধরে আমরা এদের কথা শুনতে শুনতে কানের পোকা বের করে ফেলব। আসলে ভাঙ্গা গ্রামোফোনের পিনটা আটকে আছে কোথাও, এ থেকে আমাদের মুক্তি নাই।)
যেমনটা আমরা সম্মানিত করেছি উক্য চিং-কে...১০০ টাকা দিয়ে...।

No comments: