Follow by Email

Search This Blog

Loading...

Friday, 29 June 2007

জয় রাজাকার- জয় শান্তি কমিটি!

বাড়ী ঘরে আগুন ধরিয়ে দেয়- লুটপাট করে।

মে মাসে এখানে শান্তি কমিটি এবং সেই সঙ্গে রাজাকার বাহিনী গঠন করা হয়। রজব আলী ফকির শান্তি কমিটির চেয়ারম্যান নিযুক্ত হয়। পাক আর্মি থেকে রাজাকাররাই অত্যাচার করেছে সীমাহীন!

বাগেরহাটে যতো হিন্দু ছিল এদের কিছু সংখ্যককে রাজাকাররা হত্যা করে। বাকী সবাইকে মুসলমান ধর্মে জোর করে দীক্ষিত করে, এদের আপত্তি উপেক্ষা করে! একের পর এক গ্রামের হিন্দুদেরকে এরা জোর করে মুসলমান বানাতে থাকে!

শ্রীমতি দিপালী, ধর্মান্তরিত হয়ে তাহমিনা বেগম বলেন: আমি আমার স্বামী, বাবা মা, কাকা কাকী, তাদের ছেলেমেয়েসহ, সবাই আমরা প্রাণ বাঁচাতে মুসলমান হই! কিন্ত রাজাকাররা এরপরও অনেককে ছাড়েনি, নৃশংসভাবে হত্যা করেছে!

একদিন গভীর রাতে ৫০/৬০ জন রাজাকার আমাদের বাড়ীতে আসে- মুক্তিবাহিনী পরিচয় দিয়ে থাকতে চায় রাতের জন্য। কিন্তু আমার ভাই প্রদীপ গুহ এদের দেখেই চিনে ফেলে যে এরা রাজাকার। সে ছাদ থেকে গাছ বেয়ে নীচে নেমে পালাবার চেষ্টা করেছিল। কিন্ত রাজাকাররা তাকে ধরে ফেলে, তাকে গলা কেটে হত্যা করে।
আরেকদিন আমাদের গ্রামে রাজাকাররা আসে। ওই দিন আমাদের বাড়ীতে ঢুকে, আমার দিদিমাকে লেপ কাঁথা দিয়ে জড়িয়ে কেরোসিন ঢেলে পুড়িয়ে হত্যা করে।আমার দিদিমা আগুনে পুড়তে পুড়তে চিৎকার করছিলেন- কিন্ত রাজাকারররা কাউকে এগুতে দেয়নি।
গ্রামের মেয়েদের ধরে নিয়ে পাশবিক অত্যাচার করে, তারপর গুলি করে হত্যা করে রাস্তায় ফেলে রাখে!

বিখ্যাত ব্যবসায়ী বলরাম সাহাকে হত্যা করে, তার বিরাট দোকানের গদীর উপর শান্তি কমিটির চেয়ারম্যান রজব আলী বসতো, তাকে ঘিরে থাকতো রাজাকাররা! ওখানে একটা ঘরে রাজাকাররা লোকদের জবাই করতো! রজব আলীর নির্দেশ ছিল, প্রত্যোকদিন ১০ জন লোক জবাই করতে হবে, প্রত্যোকদিন ১০ জন লোক ধরে এনে এখানে জবাই করতোই!

ধর্ষিতা অনেক মেয়ে আত্মহত্যা করেছে। কেউ গলায় দড়ি দিয়ে, কেউ বিষ খেয়ে, পাশবিক অপমান সহ্য করতে না পেরে। নদীর ঘাটে আমি দড়িবাঁধা অবস্তায় ৪/৫জন লোককে গলাকাটা অবস্তায় পেয়েছি। রাজাকাররা গলা সম্পূর্ন কাটতো না, অল্প কেটে ছেড়ে দিত, আস্তে আস্তে তারা মারা যেত ছটফট করে।
আমার মনে হয়, সমস্ত দেশে রাজাকাররা এমন নৃশংস অত্যাচার আর কোথাও করেনি।

*সূত্র: বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ, অষ্টম খন্ড, পৃষ্ঠা নং: ২৪০-২৪১
**ভাষা ঈষৎ পরিবর্তিত।

No comments: