Follow by Email

Search This Blog

Loading...

Thursday, 28 June 2007

একজন গোলাম আযম- একটি পতাকা!

*জেল থেকে ছাড়া পাওয়ার পর জামাতে ইসলামীর নেতা গোলাম আযম বিবিসিকে, সরকার আগে বিশেষ আদালত গঠন করুক না, তারপর দেখবো, আমাকে সেখানে নেয়ার ক্ষমতা রাখে কিনা। সাক্ষাৎকারটি নেন বিবিসির মি. আতিকুস সামাদ। (সূত্রঃ ভোরের কাগজ/ ১৬.০৭.৯৩)

*জেল থেকে ছাড়া পাওয়ার পর গোলাম আযম বলেন, আমার জন্য ১৮ জন শহীদ হয়েছে, এ কথা ভাবতে খারাপ লাগে, আবার ভালোও লাগে। (সূত্রঃ ভোরের কাগজ/ ১৬.০৭.৯৩)

*গত বছরের ২৪ মার্চ গোলাম আযমকে ফরেনারস এ্যাক্ট-এ আটক করা হয়েছিল। গতকাল বৃহস্পতিবার ঢাকার কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে মুক্তি দেয় হয়হাইকোর্ট বিভাগের এক রায়ে। সকাল ১১টা থেকেই সহস্রাধিক জামাতী কর্মী নাজিমউদ্দিন রোডে তান্ডব সৃষ্টি করে।
আইন প্রয়োগকারী সংস্থাকে বুড়ো আঙ্গুল দেখিয়ে তারা কেন্দ্রীয় কারাগার সংলগ্ন সমস্ত সড়ক বন্ধ করে দেয়।
গজারী লাঠির সংগে জাতীয় পতাকা বেঁধে তারা ওই জাতীয় পতাকা কখনো দুমড়ে মুচড়ে রাস্তায় ফেলে রাখে। আবার কখনো জাতীয় পতাকা ব্যবহার করে বসবার কাপড় হিসাবে।

মাইক এনে বসায়, দুপুর ২টায়, ঠিক জেল গেটের প্রধান ফটকের সামনে। পুলিশ এতে বাঁধা দেয়নি। মাইকে প্রথমে জ্বালাময়ী বক্তৃতা দেয়া হয়, এসব বক্তৃতায় সরকারকে শুধু হুমকি ধামকিই নয়- কেন্দ্রীয় কারাগার জ্বালিয়ে দেয়ার প্রকাশ্য হুমকিও ছিল! পুলিশ কর্মকর্তাদের এসব বক্তব্যে সামান্যতম উদ্বিগ্ন হতে দেখা যায়নি। এক পর্যায়ে একটি দল গেয়ে চটুল গান গেয়ে উঠে, হাওয়া হাওয়া তুই কি শুনেছিস...!

জামাতের এক নেতা জানালেন, এটা গান নয় শ্লোগান। এ সময় জামাত এবং পুলিশ একাকার হয়ে যায়! জামাতী কর্মীরা পুলিশের ভ্যান দখল করে সেখানে বসে গোলাম আযমের নামে জিকির করতে থাকে।
বিকেল ৫টা দিকে জামাতীরা গোলাম আযমের মুক্তির আশা ছেড়ে দিয়ে জনসভার উদ্যোগ নেয় জেল গেটের সামনেই। অথচ ওই স্থানে সমাবেশ করা সম্পূর্ণ বেআইনী! সাড়ে ৫টার দিকে জামাতের শীর্ষস্থানীয় নেতারা এসে ফিসফিস করে জানিয়ে যান, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে কথা হয়েছে- আজই মুক্তি হবে। ৬টা ৪০ মিনিটে গোলাম আযম বেরিয়ে আসেন জেল গেট দিয়ে! (ভোরের কাগজ/ ১৬.০৭.৯৩)

...
চারিদিকে বিভিন্ন দেশের খেলার পতাকা উড়ে- আমরা উত্সাহ উদ্দীপনা, আবেগ নিয়ে অন্য দেশের পতাকা উড়াই, চকচকে ১০-২০গজের পতাকা! আমাদের স্বাধীনতা দিবসেও তো এতো আবেগ নিয়ে উড়ে পতাকা উড়ে না।
অনেকে এ মন্তব্যে তীব্র আপত্তি জানাবেন- খেলার পতাকার সঙ্গে এই উদাহরণ দেয়ার কোন যুক্তি নাই। কিন্তু এই আবেগ নিয়ে আমরা কি জাতীয় পতাকা উড়াই। আমার স্বচক্ষে দেখা, স্বাধীনতা দিবসে বিবর্ণ, দোমড়ানো মোচড়ানো এক পতাকা লম্বা ঝাড়ুর হাতলে বেঁধে উড়ানো হয়েছে!

বিশেষ একটা দিনে কুমিরের ছানার মতো চোখের জল ফেলে এই দেশমার ঋণ শোধ করি! হালুয়া পুরি খেয়ে ভোট দিতে যাই- এই দেশবিরোধীদের গাড়ীতে পতাকা লাগাই, আমাদের মগজ গুহ্যদ্বারে জমা রেখে!
আসলে পতাকা পতাকাই- এক টুকরো কাপড় ব্যতীত অন্য কিছু না!

No comments: